দেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগজনক এক চিত্র প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি।
সংগঠনটির সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিগত মার্চ মাসজুড়ে সারা দেশে অন্তত ১১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন নাগরিক। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তথ্য বিশ্লেষণ করে শনিবার ৪ এপ্রিল এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দেখা গেছে পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় সহিংসতার ঘটনা কিছুটা কমলেও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রতিবেদনে আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। গত মাসে অন্তত ৩৪টি পৃথক হামলার ঘটনায় ৫৯ জন গণমাধ্যমকর্মী নানামুখী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন যা মুক্ত সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত ঘটনাগুলো। কেবল মার্চ মাসেই এই ধরণের গণসহিংসতায় ১৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে যা বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন জনগণের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা কঠোরভাবে দমন করা না গেলে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনে আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জনস্বার্থে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্য থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বর্তমান সরকার অনুমোদন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এইচআরএসএসের মতে সরকারের এমন অবস্থান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। যেকোনো শাসনব্যবস্থায় আইনি ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে সংগঠনটি তাদের পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে।
রক্তপাত এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হবে অবারিত। স্বজন হারানো পরিবারের দীর্ঘশ্বাস আর সহিংসতার বিভীষিকা মুক্ত হয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শান্তি ও সাম্যের পথে এগিয়ে যাবে এটাই সবার প্রত্যাশা। একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই তবেই একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমাদের প্রতিটি ইতিবাচক পদক্ষেপই হতে পারে আগামীর সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ প্রজন্মের ভিত্তি।