শিল্প সমৃদ্ধি ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিতে সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের ফলপ্রসূ আলোচনা
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে এবং বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে দেশের শিল্প উৎপাদনের চাকা সচল রাখতে ব্যবসায়ীরা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন। শনিবার ১২ এপ্রিল রাজধানীর এই সভায় উদ্যোক্তারা বর্তমান বাণিজ্যিক পরিস্থিতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সফল এই আলোচনার পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান যে শিল্প কারখানাগুলোতে নিয়মিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছে। উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারি সহযোগিতা ও প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়েও সভায় ইতিবাচক আলোচনা হয়। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ব্যবসায়ীদের এসব যৌক্তিক চাহিদার প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজ করতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই ভিসা চালু করার পাশাপাশি বিমানবন্দরে যাতায়াত প্রক্রিয়া ঝামেলামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা মনে করেন যে প্রাতিষ্ঠানিক সেবা সহজতর হলে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান উদ্যোক্তারা। রফতানি বাণিজ্যে মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াটি আরও আধুনিক ও সহজ করার বিষয়েও সভায় ঐকমত্য পোষণ করা হয়।
দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের রফতানি খাত ও অভ্যন্তরীণ বাজার আরও সমৃদ্ধ হবে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এমন সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।