শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি ও বর্তমান অগ্রগতি
দেশের এভিয়েশন খাতের সর্বাধুনিক স্থাপনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার প্রক্রিয়ায় বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই বিশাল অবকাঠামোটি যাত্রী সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলমান থাকলেও চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। শনিবার ৪ এপ্রিল রাজধানীর বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে যে জাপানের সাথে সাম্প্রতিক দ্বিতীয় দফা বৈঠকে কিছু কৌশলগত বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান থাকায় টার্মিনাল চালুর বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে বিশাল এই প্রকল্পের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে এই টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অপারেশন পরিচালনার জন্য পৃথক কোম্পানি গঠন এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর কাজ গুরুত্বের সাথে এগিয়ে চলছে। কর্মকর্তাদের মতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করাই এখন মূল লক্ষ্য।
এই বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম জানান যে দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সর্বাগ্রে রেখে জাপানের সাথে গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজস্ব বণ্টন কাঠামো এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছে যেখানে জাপানি পক্ষ থেকে শীঘ্রই একটি সংশোধিত প্রস্তাব আসার কথা রয়েছে। উভয় পক্ষ একটি টেকসই ও লাভজনক সমঝোতায় পৌঁছাতে সচেষ্ট রয়েছে যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।
উল্লেখ্য যে দুই হাজার উনিশ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই মহাপ্রকল্পের অধিকাংশ নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এই টার্মিনালটি চালু হলে বছরে প্রায় দুই কোটি যাত্রীকে উন্নত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে যা দেশের পর্যটন ও বাণিজ্যিক খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম এই অবকাঠামোটি সকল আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রত্যাশা যে যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমেই দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরটি বিশ্বমানের সেবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।