বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ মানবিক সংকট তৈরি করছে: সাইফুল হক
যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন নগরগুলোতে পরিচালিত অপরিকল্পিত হকার উচ্ছেদ অভিযানকে একটি মানবিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাইফুল হক জানান যে কোনো প্রকার বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকারদের সরিয়ে দেওয়ায় হাজার হাজার পরিবার আজ চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে এবং অনেকের ক্ষুদ্র পুঁজি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে গেছে।
বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে দেশের নগর ও মহানগরের প্রাণশক্তি হলো এই লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আমাদের আধুনিক নগরজীবন গড়ে উঠেছে। অথচ আজ সেই মেহনতি মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে অসংখ্য পরিবারে হাহাকার নেমে এসেছে যা ভবিষ্যতে নানা বিধ সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সভায় অবিলম্বে এই প্রান্তিক মানুষের জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অভিমত ব্যক্ত করেন যে যেকোনো নগর পরিকল্পনার কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের জীবিকা এবং মানবিক মর্যাদা থাকা বাঞ্ছনীয়। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে কেবল উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বরং হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে বসানোর জন্য নির্দিষ্ট জোন বা সময় নির্ধারণ করে দেওয়া প্রয়োজন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খানসহ মাহমুদ হোসেন ও ফিরোজ আলীর মতো শ্রমিক নেতৃবৃন্দ যারা শ্রমজীবী মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উন্নয়নের জোয়ারে যখন সাধারণ মানুষের রুটি রুজির পথ রুদ্ধ হয়ে যায় তখন সেই প্রগতি তার প্রকৃত সার্থকতা হারায়। নগরীর সৌন্দর্য আর শৃঙ্খলার প্রয়োজনে গৃহীত পদক্ষেপ যেন কোনোভাবেই শ্রমিকের পেটে লাথি না মারে সেটিই সুশাসনের মূল পরীক্ষা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা থাকবে সুরক্ষিত এবং প্রতিটি উন্নয়ন হবে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। অন্ধকারের সকল অনিশ্চয়তা আর উচ্ছেদ আতঙ্ক মুছে গিয়ে সহমর্মিতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি মেহনতি মানুষের জীবন এবং প্রতিটি পরিবার ফিরে পাক তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা। সাহসের সাথে এই অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক বৈষম্যহীন ও ভারসাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ।