জৈন্তাপুরে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান: জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ আইনি কঠোরতা
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থবিরোধী অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে ব্যাপক অভিযানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে অপরাধীদের জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অসহায় মানুষের অধিকার হরণ এবং সরকারি কাজে অসহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই আপসহীন অবস্থান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযানিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে রবিবার বিকেল ৫টার দিকে নিজপাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক অসহায় পঙ্গু ব্যক্তির বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে দীর্ঘদিনের বাধা প্রদান ও হয়রানির অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রশাসন। অভিযান পরিচালনাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি কেবল প্রতিবেশীর অধিকারই হরণ করেননি বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথেও চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ করেন। ফলশ্রুতিতে বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জননিরাপত্তা ও সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানোর দায়ে তাকে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ডসহ কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া শনিবার বিকেলে ওই এলাকার ভরাখালে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের সংবাদে প্রশাসন অভিযান চালালে একটি এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিনের আলামত মেলে যদিও অপরাধীরা প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রবিবার রাত ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি নির্দেশনায় ভরাখাল এলাকায় পুনরায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বরাতে জানা গেছে যে ওই এলাকায় সন্ধ্যায় একটি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে যার প্রেক্ষিতে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রশাসন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং রুপচেং ও বাংলাবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা এই অভিযান প্রসঙ্গে দৃঢ়তার সাথে বলেন যে আইনের ঊর্ধ্বে কারও অবস্থান করার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে একজন অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার হরণ এবং প্রশাসনের সাথে অসহযোগিতা করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বার্থ রক্ষা ও যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা নির্মূলে প্রশাসনের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আগামীতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল নাগরিককে আইন প্রতিপালন করার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে যখন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং অপরাধীরা জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয় তখন তা সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকারকে সুসংহত করে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার রুখে দেওয়া এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন বন্ধ করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব যা একটি অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি নাগরিক হবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রতিটি জনপদ হবে শোষণ ও অবিচারমুক্ত। অন্ধকারের সকল অরাজকতা আর ক্ষমতার দাপট মুছে গিয়ে ন্যায়বিচারের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি ঘর এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার অর্জিত অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা। সাহসের সাথে এই প্রশাসনিক সংহতিকে ধারণ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুশৃঙ্খল ও আদর্শ আধুনিক বাংলাদেশ।