ছাতকের বৌলায় ঐতিহ্যবাহী রশি টান প্রতিযোগিতা সম্পন্ন: চ্যাম্পিয়ন হেমার একাদশ
সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের বৌলা মহল্লায় স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রশি টান প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার টানে কয়েকশ উৎসুক দর্শক ভিড় জমান। ১৬টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে লক্ষীভাউর একাদশকে পরাজিত করে শিরোপা জয় করে নেয় হেমার একাদশ।
বৌলা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বখতিয়ার হোসেন বক্তারের সভাপতিত্বে এবং রাহিম হোসেন নাজিমের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন যে গ্রামীণ খেলাধুলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় বরং এটি তরুণ সমাজকে মাদক ও বিপথগামিতা থেকে দূরে রেখে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাতক প্রেসক্লাবের সদস্য মাহবুব আলম সেলিম, শিবলু আহমদ, এবং বিশিষ্ট মুরব্বি আলম মিয়া, লাল মিয়া, রানা মিয়া ও মজলু মিয়া।
প্রতিযোগিতার প্রতিটি দলে ৭ জন করে খেলোয়াড় অংশ নেন। ১৬টি শক্তিশালী দলের মধ্যে ছিল আমির একাদশ, জাবলু একাদশ, মনাই একাদশ, ইমরান ছোট একাদশ, জাহির একাদশ, চাচা-ভাতিজা একাদশ, নাজিম একাদশ, মনু একাদশ, রংধনু একাদশ, লক্ষ্মী ভাউর, নাইম একাদশ, হেমার একাদশ, বৌলা বুলেট একাদশ, দিলোয়ার একাদশ, বাহলাম একাদশ এবং কলিম একাদশ। টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে প্রতিটি পর্ব অতিক্রম করে ফাইনালে হেমার একাদশ তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য রাসেল মিয়া, জমির হোসেন ও দিলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় যুবকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। বিকেলে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। ছাতকের এই আয়োজন প্রমাণ করে যে আধুনিকতার যুগেও শেকড়ের টানে মানুষ গ্রামীণ সংষ্কৃতিকে পরম মমতায় আগলে রাখতে চায়।
আবহমান বাংলার মাটির ঘ্রাণ মেশানো এই সব খেলাধুলা যখন নতুন করে প্রাণ পায় তখন তা এক সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ইঙ্গিত দেয়। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা আর ডিজিটাল পর্দার মোহ কাটিয়ে তরুণরা যখন মাঠে নামে তখন সেখানে কেবল বিজয় নয় বরং প্রাণের উৎসব ঘোষিত হয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি জনপদে নিয়মিত এমন নির্মল বিনোদনের আয়োজন হবে এবং আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংষ্কৃতি বিশ্বদরবারে নিজের পরিচয় সমুন্নত রাখবে। অন্ধকারের সকল একাকীত্ব আর অবসাদ মুছে গিয়ে আনন্দের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি খেলার মাঠ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার নির্ভয় ও প্রাণবন্ত যাপন। সাহসের সাথে এই ঐতিহ্যবাহী সংষ্কৃতিকে লালন করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাংলাদেশ।