জৈন্তাপুরে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কৃষি সমৃদ্ধিতে মন্ত্রীর নতুন দিগন্তের সূচনা
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার জনপদে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি বিপ্লবের নতুন বার্তা নিয়ে জনকল্যাণমূলক দুটি মেগা প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সোমবার ২০ এপ্রিল তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এই পৃথক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন। দিনের শুরুতেই শিশুদের মরণব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে চিকনাগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশব্যাপী হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের অঙ্গীকার করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন যে শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উল্লেখ করেন যে উপজেলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যের আওতায় থাকা প্রায় ২৭ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনতে একটি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১২১টি অস্থায়ী কেন্দ্র সক্রিয় করা হয়েছে। ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী কোনো শিশু যেন এই জীবন রক্ষাকারী সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। টিকাদানের পর সাময়িক শারীরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রচলিত সামাজিক অন্ধবিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে তিনি ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষকদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিকেলের দিকে মন্ত্রী উপজেলার কৃষি অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ১ নং নিজপাট ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় ভুগলিখাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও কৃষকের সেচ সংকট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগকে তিনি সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও জানান যে বিএডিসি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ভূ উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চারিকাটা ইউনিয়নের জাফরাং খালের অগ্রগতিও অত্যন্ত সন্তোষজনক যা অত্র অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা ও ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয় পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সিলেটের শস্যভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উন্নয়ন ও জনহিতকর এই বিশেষ মুহূর্তে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ এবং জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। স্বাস্থ্য ও কৃষি সেবার মান নিশ্চিত করতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা মো নাসির উদ্দীন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা হারিস উদ্দিন আহমদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার। এ ছাড়া আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্বরত জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা সহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ এবং বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সুধীজন এই কর্মযজ্ঞে শরিক হন। সরকারের এই বিশাল উদ্যোগ ও মন্ত্রীর আন্তরিক তদারকি স্থানীয় জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।