জকিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরঞ্জামের সংকট ও লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সেবায় অনাকাঙ্ক্ষিত স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (১ মে) সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানা যায় যে জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের অধীনে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি নতুন মিটার ও খুঁটি পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক মানুষ সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় জামানত জমা দিয়েও মাসের পর মাস অপেক্ষা করে সংযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সুলতানপুর ইউনিয়নের সখড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম এবং জকিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শাহেদ আহমদের মতো অনেক গ্রাহক সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় যে বর্তমানে জকিগঞ্জে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১২ মেগাওয়াট থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে গ্রাহকদের যেমন ভোগান্তি বাড়ছে তেমনি নতুন সংযোগের জন্য প্রায় এক হাজার আবেদন জমা পড়ে থাকলেও মিটার সংকটের কারণে তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। গেছুয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের মতো ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ স্থানীয় পর্যায়ে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু চক্রের নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে এপ্রিল মাস নাগাদ সীমিত সংখ্যক মিটার সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলেও চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত নগণ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জকিগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ছারওয়ার জাহান সামগ্রিক পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে জানান যে মিটার এবং খুঁটির তীব্র সংকটের কারণেই মূলত নতুন সংযোগ প্রদান কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্ত সীমিত সরঞ্জাম দিয়ে কেবল অতি জরুরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মিটারগুলো প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিদ্যুৎ কেবল একটি সেবা নয় বরং আধুনিক সভ্যতায় এটি মানুষের স্বপ্নের সারথি। জকিগঞ্জের এই অন্ধকার ঘেরা রাতগুলো দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে এবং প্রতিটি আঙিনায় বিদ্যুতের নতুন আলো মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলবে এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা। আলোহীন ঘরগুলোতে যখন আবারও বিদ্যুতের বাতি জ্বলে উঠবে তখন কেবল অন্ধকারই দূর হবে না বরং সমৃদ্ধ হবে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান।