ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর সরকার শক্তিশালী করছে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি
দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় পরিসরে টিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে যা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন আজ ৬ মে বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের মাধ্যমে আসা টিকার একটি বিশাল চালান গ্রহণকালে এসব তথ্য জানান।
কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে এই চালানে ১৫ লাখ ডোজ হাম রুবেলা এবং ৯০ হাজার ভায়ালে ৯ লাখ ডোজ টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া প্রতিরোধী টিকা দেশে পৌঁছেছে।
গণমাধ্যমের সামনে বর্তমান পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন যে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এখন সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সাথে বাস্তবায়ন করছে। অতীতের কিছু ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিটি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমান প্রশাসনের সময়োচিত পদক্ষেপে তা এখন কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে সরকার ইতিমধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে প্রদান করেছে যার বিপরীতে পর্যায়ক্রমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ বিভিন্ন ধরনের টিকা পাওয়া যাবে। চলতি মাসের ৩ তারিখে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি আইপিভি টিকা আসার পর আজকের এই চালানটি দেশের চিকিৎসা খাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে আগামী ১০ মে এর মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজের বেশি ওরাল পোলিও, বিসিজি, টিসিভি এবং পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছাবে যা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে চলমান হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ এর সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান যে ৫ মে পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ বা ১ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশুকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। দেশের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং টিকার মান নিয়ন্ত্রণে ইউনিসেফ নিরলস কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন যে বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় আগামী এক বছর টিকার কোনো সংকট হবে না।
শিশুদের একটি সুস্থ ও রোগমুক্ত ভবিষ্যৎ উপহার দিতে তিনি শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। টিকাদান কর্মসূচিকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি। এই সময় বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এবং ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।