সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকালে জৈন্তাপুরে দালালসহ চোদ্দজন আটক
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় এক শিশু ও নয় নারীসহ চোদ্দজন নাগরিককে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সাথে মানবপাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক দালালকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) দুপুরে সীমান্তবর্তী এই উপজেলার সদরের ভূমি অফিসের বিপরীত পাশে অবস্থিত একটি বহুতল ভবন থেকে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
গোপন সূত্রে জানা যায় যে রবিবার গভীর রাতে সীমান্ত অঞ্চলের বারোশো সাতাশি নম্বর পিলারের এলাকা ব্যবহার করে এই দলটি অবৈধ উপায়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে একটি পাচারকারী চক্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাদের জৈন্তাপুর সদর এলাকার আব্দুল করিম মিয়ার মালিকানাধীন তিনতলা ভবনের একটি কক্ষে অত্যন্ত গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। দুপুরের দিকে বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসলে মানবপাচার চক্রের অন্যতম অভিযুক্ত সদস্য এবং উপজেলার ডিবির হাওড় এলাকার ছায়েদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ওই ভবনের তিনতলা থেকে শাড়ি বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই সময় উপস্থিত জনতা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে।
খবর পাওয়ার সাথে সাথেই জৈন্তাপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক লিটন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থল অবরুদ্ধ করে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই ভবনের নিচতলার একটি ইউনিট থেকে তিনজন পুরুষ, নয়জন নারী এবং দুই বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে খুলনা জেলার বাসিন্দা হাসান খান, তার স্ত্রী সুমি খাতুন, নুরজাহান খাতুন, এশা আক্তার, সোনিয়া বেগম এবং তাদের দুই বছরের শিশু সন্তান আমজাদ শেখ রয়েছেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার ও সিমরান সুলতানা, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ তানজিম উদ্দিন, পিরোজপুরের মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, ঢাকার ডেমরা এলাকার আমেনা আক্তার পলি, নোয়াখালীর রুমি আক্তার এবং যশোর জেলার বাসিন্দা সবুরণ নেছা এই দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান যে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মানবপাচারের এই সংবেদনশীল ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত এবং গ্রেফতার করতে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষায় প্রশাসনের এই কার্যকর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সীমান্তের কাঁটাতার কিংবা অবৈধ কোনো পথ কখনোই মানুষের জীবনের সঠিক গন্তব্য হতে পারে না। আইনি জটিলতা আর দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে এভাবে নারী এবং কোলের শিশুকে নিয়ে অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ানো প্রতিটি নাগরিকের জন্যই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি বিষয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন মানবিক ও সতর্ক অভিযান একদিকে যেমন অপরাধীদের রুখে দেয়, অন্যদিকে তেমনি বিপথগামী এই মানুষগুলোকে আরও বড় কোনো মানবিক বিপর্যয় বা বিপদের হাত থেকে নিরাপদে রক্ষা করে।