প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে ফুটবলারদের জন্য সিলেট জেলা প্রশাসনের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা ও বিতরণ
সিলেটের খুদে ফুটবলারদের ক্রীড়া নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিকাশে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। সিলেটে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক ২০২৬ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালিকা ২০২৬ এর ফাইনাল খেলায় অংশ নেওয়া বিজয়ী ও রানার্স আপ দলগুলোর জন্য এই বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার ২৩ মে দুপুর দুইটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে দলগুলোর হাতে এই প্রণোদনার অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর জন্য পূর্বঘোষিত পঞ্চাশ হাজার টাকার পুরস্কারের অঙ্ক বাড়িয়ে পঁচাত্তর হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী দলগুলো এই বিশেষ উপহার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এর আগে গত ১৭ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন সময়েই জেলা প্রশাসক মাঠের লড়াইয়ে মুগ্ধ হয়ে শুধু আর্থিক সহায়তাই নয় বরং টুর্নামেন্টের ফাইনালিস্ট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়টি আলোচনায় এলে শিশুদের প্রতি সংবেদনশীল জেলা প্রশাসক তাত্ক্ষণিকভাবে একটি ইতিবাচক আশ্বাস দেন। তিনি জানান যে জৈন্তাপুর উপজেলায় নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবনের সরকারি বরাদ্দ আসার সাথে সাথেই মোকামপুঞ্জি স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের সাথে বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নতুন প্রজন্মকে নিয়ে তাঁর সুন্দর ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় বন্দি না রেখে মাঠের খেলাধুলার প্রতি সমভাবে আগ্রহী করে তুলতে হবে। শারীরিক ও মানসিক গঠনে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই এবং বর্তমান সময়ে শৈশবকে গ্রাস করা মোবাইল আসক্তি থেকে কোমলমতি শিশুদের দূরে রাখতে মাঠমুখী ও খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
ক্রীড়াঙ্গনে প্রশাসনের এমন আন্তরিক ও পিতৃসুলভ পৃষ্ঠপোষকতা সত্যি প্রশংসনীয়। সবুজ মাঠের এই ক্ষুদে ফুটবলাররাই আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাকে উঁচিয়ে ধরবে এবং আজকের এই সামান্যতম উৎসাহ তাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে এক বিশাল সম্ভাবনায় রূপান্তর করবে এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।