সিলেটের জৈন্তাপুরে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট অভিযানে পিকআপ ভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চা পাতা জব্দসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার
সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় চা পাতা জব্দ করেছে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ। সিলেট তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর এলাকায় স্থাপিত পুলিশের একটি বিশেষ তল্লাশি চৌকিতে এই অভিযান চালানো হয়। শনিবার ২৩ মে দুপুরে এই অভিযান পরিচালনাকালে চোরাই পণ্য বহনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ দল।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায় যে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় সঙ্গীয় ফোর্সসহ হরিপুর নামক স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। তল্লাশিকালে মহাসড়ক দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলা একটি নীল রঙের এইচ পিকআপ গাড়িকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে ২১টি বস্তা উদ্ধার করা হয় যার প্রতিটিতে পঞ্চাশ কেজি করে মোট এক হাজার পঞ্চাশ কেজি অবৈধ ভারতীয় চা পাতা লুকানো ছিল। এই বিপুল পরিমাণ চোরাই চা পাতা জব্দের পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে মো. আলম মিয়া নামের পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে যিনি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়বন্দ এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।
মামলার প্রাথমিক বিবরণী থেকে জানা যায় যে শুক্রবার দুপুর একটা পঁয়ত্রিশ মিনিটের দিকে উপপরিদর্শক উৎসব কর্মকার তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স এবং উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তল্লাশি চালান। আটক ব্যক্তির হেফাজত থেকে অবৈধ চা পাতাগুলো উদ্ধার করার পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি আইনসম্মত জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান যে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে জেলা পুলিশের এই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান সর্বদা অব্যাহত রয়েছে। একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই হরিপুর এলাকায় এই বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল যার ফলে ভারতীয় চা পাতার এই বড় চালানটি ধরা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের সহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা সমাজে অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে তোলে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা অবৈধ পণ্যের আগ্রাসন থেকে দেশীয় বাজার ও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে পুলিশের এই নিরলস প্রচেষ্টা আগামী দিনেও একটি অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে অনন্য অবদান রাখবে।