প্রশাসনিক সংস্কারে গতি আনতে ১০ উপদেষ্টার দফতর বণ্টন: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন
রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ১০ উপদেষ্টার মধ্যে সুনির্দিষ্ট দফতর বণ্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী অর্পিত এই দায়িত্বে পাঁচজন উপদেষ্টাকে পূর্ণ মন্ত্রীর এবং বাকি পাঁচজনকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদান করা হয়েছে।
সরকারের রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান সুসংহত করতে পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পাণ্ডিত্যের সমন্বয়ে গঠিত এই উপদেষ্টা প্যানেল সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের মধ্যেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতসমূহ বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে জাহেদ উর রহমানকে পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ ও মেধাবী মাহদী আমিনকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই পদমর্যাদায় রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে এই ১০ উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের এই নতুন পথচলা কেবল দাপ্তরিক দায়িত্ব গ্রহণ নয় বরং আগামীর সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার এক সাহসী অঙ্গীকার। তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার এই সুসমন্বয় যেন দেশের প্রতিটি প্রান্তে সুশাসন আর উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেয়, একটি সুখী ও স্থিতিশীল জনপদ হিসেবে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মাহেন্দ্রক্ষণে এটাই হোক সবার ঐকান্তিক কামনা।