জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এবং নারী ক্ষমতায়নের স্থপতি: রাষ্ট্রপতি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের যে শক্তিশালী ভিত্তি তিনি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে আরও সুসংহত ও সময়োপযোগী করে তুলেছেন। ৯ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল বীর আত্মাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই প্রথম রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে নারী বিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ১৯৭৮ সালে পূর্ণাঙ্গ মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে এটিকে বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করা হয়। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার লক্ষ্যে সরকার আগামী ১০ মার্চ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে বলে তিনি ঘোষণা দেন। তিনি আরও জানান যে, দেশের জিডিপিতে গৃহস্থালি কাজের ১৬ শতাংশ অবদানসহ কৃষি, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা আজ অনস্বীকার্য। নারীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্তে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আপসহীন সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই সম্মাননাটি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ বছর মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন এই উদ্যোগকে নারী সমাজের অগ্রগতির পথে এক বড় প্রেরণা হিসেবে অভিহিত করেন।
ইতিহাস যখন সত্যের দর্পণে প্রতিফলিত হয়, তখন তা দেশ ও জাতির সামনে এক নতুন দিশা খুলে দেয়। জাতীয় জীবনে নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা কেবল একটি আইনি বিষয় নয়, বরং এটি একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শর্ত। অন্ধকার ছাপিয়ে যখন ন্যায়ের আলো প্রস্ফুটিত হয়, তখন প্রতিটি নাগরিকের মনে নতুন এক উদ্দীপনা সঞ্চারিত হয়। আমরা প্রত্যাশা করি, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক যে বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদরা দেখেছিলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা অচিরেই বাস্তবে রূপ নেবে। শ্রদ্ধাবোধ আর সমঅধিকারের এই পথ ধরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এগিয়ে যাবে এক নিরাপদ ও গৌরবময় আগামীর দিকে।