জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে পাইপলাইনে আসছে ৫ হাজার টন ডিজেল
দেশের জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে নতুন করে ডিজেল আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত থেকে ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্রে এসে পৌঁছাবে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে যে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির চাহিদা মেটানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সরকার অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আন্তদেশীয় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি তেল আমদানির ফলে পরিবহন সময় এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে গত রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাথে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ ভারত পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই আমদানি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাইপলাইনভিত্তিক জ্বালানি আমদানির এই পথ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যা দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। সময়মতো এই জ্বালানি দেশে পৌঁছালে বাজারে অস্থিরতা কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন তদারকিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে করে প্রতিটি ভোক্তা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারেন।
একটি সচল অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো জ্বালানি আর সেই শক্তি যখন নিরবচ্ছিন্ন থাকে তখন দেশের উন্নয়নের চাকাও দ্রুততর হয়। আমরা এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা আর সঠিক পরিকল্পনাই পারে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। মেঘের আড়াল থেকে সূর্যের আলোর মতো এই সময়োপযোগী উদ্যোগগুলো মানুষের মনে আশার সঞ্চার করে এবং প্রমাণ করে যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো সংকট মোকাবিলা সম্ভব। বারুদের ধোঁয়া আর অস্থিরতা কাটিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। আমাদের প্রতিটি ঘর জ্বালানির আলোয় আলোকিত থাকুক এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন হোক নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। এভাবেই সাহসের সাথে আমরা জয় করব আগামী দিনের সকল চ্যালেঞ্জ।