মব কালচার কঠোরভাবে দমনের ঘোষণা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে ক্রমবর্ধমান মব কালচার বা গণপিটুনির প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ১০ মার্চ ২০২৬ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে মব সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং সব ঘটনাকে ঢালাওভাবে মব বলা ঠিক নয়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি কোনো সাধারণ মব নয় বরং এটি একটি নির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা ক্রাইম হিসেবে গণ্য হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে মব স্টাইলে কারো ওপর জুলুম করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এর পেছনে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। তিনি জানান যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমুদ্র সৈকতের সকল ধরণের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পর্যটন নগরীকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন তিনি। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশ সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া উখিয়া ও টেকনাফের মাদক রুটগুলো চিরতরে বন্ধ করতে এবং অনলাইন জুয়া নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
আলোচিত হাদি হত্যা মামলায় জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে এ ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের মুখোমুখি করা হবে এবং কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন। সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে আইনের শাসনের চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই এবং মব কালচারের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সভ্য সমাজের পরিপন্থী। যখন বিচারিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কেউ অপরাধের পথ বেছে নেয় তখন তা কেবল অরাজকতাই ডেকে আনে। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিক আইনের আশ্রয় পাবে এবং অপরাধী তার কৃতকর্মের জন্য উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করবে। পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৌন্দর্য যেমন আমাদের গর্ব তেমনি সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। অন্ধকার আর অপরাধের শিকল ভেঙে আমরা গড়ে তুলব এক সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সমাজ যেখানে প্রতিটি মানুষ নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে। ন্যায়ের এই পথ ধরে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি জনপদে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তির চিরন্তন আদর্শ। এভাবেই সাহসের সাথে আমরা জয় করব আগামীর সকল চ্যালেঞ্জ এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।