দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের জাকাত ব্যবস্থাকে আধুনিক সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষে জাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি দেশের বিদ্যমান জাকাত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। মূলত জাতীয় পর্যায়ে জাকাত সংগ্রহের সঠিক বন্টন নিশ্চিত করতেই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই কমিটিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আলেম ওলামাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের নাম প্রস্তাব করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি খুব দ্রুতই জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন এবং এর প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করবে।
উল্লেখ্য যে গত শনিবার আলেম ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ জাকাত ব্যবস্থাপনা আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূলে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারে। সেই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় সোমবারের এই বৈঠকে কার্যকর জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকার মনে করছে যে সঠিক ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে জাকাত সংগৃহীত ও বন্টিত হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।
একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে জাকাত হলো ইসলামের এক অনন্য অর্থনৈতিক বিধান যা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনে। যখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে স্বচ্ছতার সাথে এই সম্পদ বন্টন করা হবে তখন প্রতিটি অভাবী মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে এবং ইনসাফভিত্তিক এক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। ত্যাগের মহিমা আর সহমর্মিতার এই পথ ধরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এগিয়ে যাবে এক সমৃদ্ধ ও দারিদ্র্যমুক্ত আগামীর দিকে। সাহসের সাথে সত্য ও ন্যায়ের এই চর্চা আমাদের জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেবে শান্তির বার্তা। এভাবেই মানবিকতার জয় হোক আর ঘুচে যাক সকল অভাব ও বঞ্চনার অন্ধকার।