মানবিকতায় আলী আহমদ দবীর: ১০০ পরিবারের ঘরে পৌঁছালো ঈদের খুশি
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আলী আহমদ দবীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এই সহায়তা প্রদান করেন। উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ১০০ জন দুস্থ মানুষের মাঝে ১ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার বিতরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ বিকেলে জৈন্তিয়া প্রবেশ গেট সংলগ্ন চিকনাগুল ইউনিয়ন যুবসংঘের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
উপহার বিতরণকালে আলী আহমদ দবীর উল্লেখ করেন যে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা প্রতিটি সচেতন মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন যে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত সেবা। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে যখন নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে তখন এই নগদ অর্থ ও উপহার পেয়ে স্থানীয় সুবিধাভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান যে এই সহায়তা তাদের ঈদ উদযাপনকে অনেক সহজ ও আনন্দময় করে তুলবে। এলাকায় এই মানবিক কর্মকাণ্ডটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে চারিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল এবং জৈন্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোঃ শাহাজাহানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও মঈনুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এই আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করেন। উপস্থিত অতিথিরা সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুস্থদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সাথে এই উপহার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনমনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
নাড়ির টানে সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টের সঙ্গী হওয়াই হলো প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচয়। যখন ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে একজন মানুষ অন্যের শূন্য আঁচল পূর্ণ করার শপথ নেন তখন তা কেবল একটি উপহার থাকে না বরং সেটি হয়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের এক অমলিন স্বর্গীয় বন্ধন। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি হৃদয় এভাবেই অন্যের প্রয়োজনে স্পন্দিত হবে এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে উৎসবের অকৃত্রিম আনন্দ। অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে একদিন ভালোবাসার এই জয়গান প্রতিটি মানুষের মনে প্রশান্তি বয়ে আনবে এটাই আমাদের পরম চাওয়া। সাহসের সাথে সত্য ও সুন্দরের পথে চলেই আমরা গড়ে তুলব এক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।