সংকট পেরিয়ে কাতার থেকে দেশে ফিরলেন ৪৩০ বাংলাদেশি: বিশেষ ফ্লাইটে ফেরা যাত্রীদের বিমান বন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারে আটকা পড়া ৪৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। শনিবার ১৫ মার্চ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি জানান যে গত শুক্রবার রাতে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে এই বিশাল যাত্রী বহর নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ফিরিয়ে আনা এই যাত্রীদের মধ্যে সাধারণ প্রবাসীদের পাশাপাশি ট্রানজিটে আটকে পড়া যাত্রী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।
চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ফ্লাইট চলাচল সীমিত ও বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কাতারে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। এই মানবিক সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাতার কর্তৃপক্ষ ও কাতার এয়ারওয়েজের সাথে সমন্বয় করে এই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে। এর আগে গত ১১ মার্চ এক জরুরি বার্তায় বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের আশ্বস্ত করেছিল যে ক্ষতিগ্রস্তদের দেশে ফেরা সহজ করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুগল ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছিল যেখানে পরিবার নারী শিশু ও বয়স্কদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রথম দফায় এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ফিরে আসা যাত্রীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ শেষে দ্রুততম সময়ে তাদের স্বজনদের কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিপদের দিনে সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপ সাধারণ প্রবাসীদের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার করেছে।
স্বদেশের মাটি যখন কোনো বিপদগ্রস্ত সন্তানকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেয় তখন তার চেয়ে প্রশান্তির আর কিছু হতে পারে না। পরবাসে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মাঝে আটকে থাকা মানুষগুলোর কাছে এই বিশেষ ফ্লাইট ছিল যেন এক পশলা শান্তির বৃষ্টি যা তাদের দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়েছে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি প্রবাসী নাগরিক বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে নিরাপদ থাকবেন এবং রাষ্ট্রের সুরক্ষা বলয় সর্বদা তাদের ঘিরে থাকবে। অন্ধকারের সকল অনিশ্চয়তা মুছে গিয়ে প্রতিটি ঘর যেন তার প্রিয়জনকে ফিরে পায় এবং প্রতিটি জনপদ ভরে উঠুক অনাবিল আনন্দে। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের নিরাপদ রাখতে হবে আমাদের প্রতিটি নাগরিককে।