কিশোর সুমন হত্যায় বিচারের দাবিতে উত্তাল ফতেহপুর: নেপথ্যের নায়কদের আড়ালের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুরে বন্ধুত্বের ছদ্মবেশে কিশোর সুমন আহমদকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বিচার ও অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ জনতা। বুধবার (১৮ মার্চ) ফতেহপুর বাজারে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ে সকল আসামির গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করেন। বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডকে মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে এই জনপদে এমন জঘন্য অপরাধের কোনো ঠাঁই নেই। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে গোয়াইনঘাটবাসী আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবে বলে তারা হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
ফতেহপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এখলাসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ একাত্মতা পোষণ করেন। বক্তারা অভিযোগ করেন যে প্রভাবশালীদের ইশারায় প্রকৃত অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিহত সুমনের পিতা আনোয়ার হোসেন পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া ও মামলার ধরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ছয়জনের নাম উল্লেখ করলেও রহস্যজনকভাবে দুইজনকে বাদ দিয়ে মাত্র চারজনের নামে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে মূল অভিযুক্ত আশফাক তার ছেলের সহপাঠী ছিল এবং সুমনের কাছে আশফাকের কিছু অপকর্মের তথ্য থাকায় পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সিলেট জেলা পুলিশ সুপার এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে নিহত সুমনের মা সালমা বেগমের বুকফাটা আর্তনাদ উপস্থিত জনতাকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি তার সন্তানের ঘাতকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানান। উল্লেখ্য যে গত ১২ মার্চ রাতে ফতেহপুর ইউনিয়নের বানিগ্রাম এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সুমনের গলাকাটা নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। যদিও পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে তবে পরিবারের দাবি এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও প্রভাবশালী কুশীলব জড়িত রয়েছেন যাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
একটি সমাজ কতটা নিরাপদ তা বোঝা যায় সেই সমাজের শিশুদের নিরাপত্তার মানদণ্ডে আর যখন বন্ধুত্বের আড়ালে এমন নৃশংসতা ঘটে তখন তা মানবতার গায়ে এক কলঙ্কজনক তিলক এঁকে দেয়। সন্তানের লাশের ভার বয়ে বেড়ানো বাবার কান্না আর বিলাপ যেন কেবল হাহাকার হয়ে আকাশে না মেশে বরং তা যেন ন্যায়বিচারের এক অজেয় শক্তিতে পরিণত হয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি অপরাধের বিচার হবে সুনিশ্চিত এবং কোনো প্রভাবের কাছে সত্যের কণ্ঠরোধ হবে না। অন্ধকারের সকল অন্যায় আর পাশবিকতা মুছে গিয়ে আইনের সুশাসনের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মা যেন তার সন্তানকে নির্ভয়ে বুকে আগলে রাখার নিরাপত্তা পান। সাহসের সাথে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক মানবিক ও অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ।