মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থায় স্থবির শাহ আমানত বিমানবন্দর: একদিনে ৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও রণতপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের আকাশপথে। আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থা তীব্র আকার ধারণ করায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার (১৮ মার্চ) সারাদিন ৯টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে শারজাহ, দুবাই, আবুধাবি ও মাস্কাটগামী কয়েক হাজার যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইনস তাদের পূর্বনির্ধারিত সূচি স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পুনরায় স্থবির করে দিয়েছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায় যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি আগমনী ও ১টি বহির্গামী ফ্লাইট এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুবাই রুটের ১টি আগমনী ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া এয়ার আরাবিয়ার শারজাহ রুটের ৪টি এবং সালাম এয়ারের মাস্কাট রুটের ২টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার তালিকায় রয়েছে। যদিও মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সীমিত পরিসরে কয়েকটি ফ্লাইট সচল ছিল তবে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় পুনরায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের পর থেকে এখন পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মোট ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
আকাশপথের এই স্থবিরতা কেবল সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যাহত করছে না বরং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে ফেরা এবং জরুরি প্রয়োজনে দেশে আসার ক্ষেত্রে চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে যুদ্ধক্ষেত্রের আকাশপথ ব্যবহার করা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইটের এই অনিশ্চয়তা কাটবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যা পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচল খাতকে এক বড় ধরনের অর্থনৈতিক লোকসানের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বারুদের ধোঁয়া আর যুদ্ধের দামামায় যখন সাধারণ মানুষের ডানা মেলার স্বপ্নগুলো ধূলিসাৎ হতে থাকে তখন তা এক গভীর বিষাদ বয়ে আনে। কোনো ভূ-খণ্ডের সীমানার লড়াই যেন মানুষের স্বাধীন চলাচলের পথে কাঁটাতারের প্রাচীর হয়ে না দাঁড়ায় সেটিই আজ প্রতিটি হৃদয়ের প্রার্থনা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে আকাশ হবে মেঘমুক্ত ও নিরাপদ এবং প্রতিটি বিমান হবে কেবল শান্তির বার্তা ও প্রিয়জনের সান্নিধ্যের বাহক। অন্ধকারের সকল যুদ্ধংদেহী উন্মাদনা মুছে গিয়ে মানবিকতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি রানওয়ে এবং প্রতিটি যাত্রী ফিরে পাক তার নির্বিঘ্ন গন্তব্যের নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে এই কঠিন সময় অতিক্রম করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিশ্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা।