তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা ও এপ্রিলের আবহাওয়া বার্তা
তীব্র দাবদাহ আর প্রকৃতির রুদ্ররূপ নিয়ে শুরু হওয়া এপ্রিল মাসজুড়ে দেশজুড়ে একাধিক তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার এই চরম অবস্থায় জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে যা নিয়ে ইতিমধ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশ্লেষণে জানানো হয় যে চলতি মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি কয়েক দফা মৃদু ও মাঝারি মাত্রার দাবদাহ বয়ে যেতে পারে। লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের ঘনঘটা এই মাসের আবহাওয়াকে আরও সংঘাতময় করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী মার্চের শেষ দিকে শুরু হওয়া এই উষ্ণ প্রবাহ এপ্রিলের শুরুতে আরও বিস্তৃত হয়ে দেশের প্রায় ২৭টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা এই সময়ের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়ায় নগরজীবনে অস্বস্তি চরমে উঠেছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও প্রকট হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে তিন থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যার মধ্যে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ কিংবা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সাথে এই মাসে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল প্রবণতা থাকবে যেখানে অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা ও মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র গতির ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়ে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে আগামী ৭ এপ্রিলের দিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে যা সাময়িকভাবে উত্তপ্ত প্রকৃতিকে শান্ত করতে ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে বর্তমানে তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে যা এখন সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ শিল্পোন্নত এলাকাগুলোতে এই গরমের তীব্রতা ভবিষ্যতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা ও রোদে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণ মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।