এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা দ্বিগুণ করার জোরালো আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে উৎসব ভাতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করার জোরালো আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে উৎসব ভাতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধির পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। নববর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণে শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণা শিক্ষক সমাজের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, অতীতে শিক্ষকদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের অবদানের কথা বিবেচনা করে সেই ভাতাকে শতভাগে উন্নীত করা এখন সরকারের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষকদের আর্থিক দৈন্যদশা দূর না হলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব। তাই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বক্তারা শিক্ষা খাতের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে সরকারের বর্তমান গতিশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, কেবল উৎসব ভাতা নয় বরং শিক্ষা খাতের বিদ্যমান সকল অসঙ্গতি ও সমস্যাগুলো ক্রমান্বয়ে সমাধানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষক সমাজের নায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, প্রস্তাবিত এই উদ্যোগগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষকরা যখন অভাবমুক্ত হয়ে মর্যাদার সাথে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন, তখন তাঁরা আরও বেশি উৎসাহ ও একাগ্রতার সাথে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন।
শিক্ষকের কলম যখন অভাবের তাড়নায় থমকে যায়, তখন একটি জাতির মেধা ও মনন থমকে দাঁড়ায়। মানুষ গড়ার কারিগরদের মুখে হাস ফুটিয়েই আমাদের সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে হবে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি শিক্ষক হবেন সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত ও নিশ্চিন্ত নাগরিক এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ হবে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। অন্ধকারের সকল বৈষম্য আর অবহেলা মুছে গিয়ে সম্মানের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিক্ষকের জীবন এবং প্রতিটি ছাত্র ফিরে পাক তার আদর্শ শিক্ষকের নিবিড় সান্নিধ্য। সাহসের সাথে এই শিক্ষা সংস্কারকে ধারণ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক জ্ঞাননির্ভর ও আধুনিক বাংলাদেশ।