মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিথর দেহ অবশেষে ফিরছে স্বদেশের মাটিতে।
পরবাসের মাটিতে অকালমৃত্যুর মিছিলে যোগ হওয়া বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিথর দেহ অবশেষে ফিরছে স্বদেশের মাটিতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই শিক্ষার্থীর কফিন নিয়ে একটি বিশেষ বিমান ইতিধ্যেই দেশের পথে রওনা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তার মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে আগামী শনিবার (৯ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টির মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।
শোকাতুর পরিবারের কাছে দ্রুততম সময়ে মরদেহ পৌঁছে দিতে শুরু থেকেই অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করেছে মায়ামিস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। স্থানীয় কনসাল জেনারেলসহ পদস্থ কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে আইনি ও প্রশাসনিক সমস্ত দাপ্তরিক কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করেন। একই ঘটনায় প্রাণ হারানো অপর কৃতি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও অনুরুপ
প্রক্রিয়ায় দেশে পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রিয় সন্তানদের শেষ বিদায় জানাতে বাংলাদেশ সরকার এই দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
এর আগে গত ১ মে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস বৃষ্টির পরিচয় নিশ্চিত করার পর ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম বেগবান করা হয়। স্বদেশের পথে রওনা হওয়ার আগে টাম্পা বে এলাকার ইস্তাবা ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে বৃষ্টির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশি প্রবাসীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বিদায় জানান। মেধাবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ বৃষ্টি ও লিমনকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বসন্তকালীন সমাবর্তনে কনস্যুলেট প্রতিনিধির মাধ্যমে নিহত এই দুই গবেষকের পরিবারের হাতে পরম মমতায় এই বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।