পাক বাংলাদেশ নলেজ করিডোর চুক্তির মাধ্যমে পাঁচশত শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো। এই যুগান্তকারী আয়োজনের অংশ হিসেবে বিশেষ নলেজ করিডোরের অধীনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের পাঁচশত মেধাবী শিক্ষার্থী। রবিবার (১৭ মে) সকাল এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এই বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের পূর্বে সকাল দশটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা উন্নয়ন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই সভায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পাকিস্তানের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক এবং আরেকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে পারস্পরিক আগ্রহের স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের এই বিশেষ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর মো সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডক্টর ইসমাইল হোসেন এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর মো মনিরুল ইসলামসহ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বাইশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
উদ্বোধনী পর্বের এক বিশেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এই শিক্ষা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে উল্লেখ করেন যে দুই দেশের মধ্যকার শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করাই এই বিশেষ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই শিক্ষা বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেমন নতুন একটি দেশের জীবনধারা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারবে, ঠিক তেমনি পারস্পরিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও চমৎকারভাবে জানার সুযোগ তৈরি হবে। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি আগামী দিনে দুই দেশের জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে দীর্ঘকাল কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর এ এম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন যে বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প হতে পারে না। নলেজ করিডোরের এই চমৎকার সুযোগটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেধা ও মনন বিকাশের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে যার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিবেশে নিজেদের দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করতে পারবে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই শিক্ষা ও গবেষণার বৈশ্বিক সম্প্রসারণে বিশ্বাসী এবং এই চুক্তি আগামী দিনে দুই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক আদান প্রদানকে আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শিক্ষা কেবল কোনো ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ থাকে না বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেয় সম্প্রীতি ও উদারতার আলো। এই বিশেষ শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ দেশের শতশত তরুণ শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে ডানা মেলার নতুন আকাশ উপহার দেবে। জ্ঞান ও সংস্কৃতির এই আন্তর্জাতিক বিনিময় একদিকে যেমন দুটি দেশের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও গভীর করবে, ঠিক অন্যদিকে তেমনি বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে এক উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করবে যা সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক।