জন্মদিনেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু;
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত সদস্য এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ৬৬তম জন্মদিনের সকালে (১৯ ফেব্রুয়ারি) টেমস ভ্যালি পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের গুরুতর সন্দেহে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
টেমস ভ্যালি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে করা এক ‘গভীর মূল্যায়ন’ শেষে এই গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ বার্কশায়ার ও নরফোকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঠিকানায় ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। রাজপরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্যকে এভাবে গ্রেপ্তারের ঘটনা আধুনিক ব্রিটেনের ইতিহাসে বিরল।
অ্যান্ড্রুকে ঘিরে বিতর্কের নেপথ্যে: * এপস্টিন সংযোগ: প্রয়াত মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অ্যান্ড্রু দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
* সামরিক উপাধি ত্যাগ: ২০২২ সালে ভার্জিনিয়া জুফরে নামের এক নারীর করা যৌন নিপীড়নের মামলা নিষ্পত্তির পর অ্যান্ড্রু তাঁর সামরিক উপাধি এবং ‘হিজ রয়্যাল হাইনেস’ (HRH) সম্বোধন ব্যবহারের অধিকার হারান।
* অসদাচরণের অভিযোগ: চলমান তদন্তটি মূলত তিনি যখন রাজকীয় সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেই সময়ের প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত অসদাচরণের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে।
প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। তবে এবারের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ এবং বিশ্ব গণমাধ্যম এখন এই তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে আছে। জন্মদিনের উৎসবে মেতে ওঠার বদলে রাজপুত্রের এই কারাবরণ রাজপরিবারের ভাবমূর্তি নতুন করে সংকটে ফেলল বলে মনে করছেন বিশ্লেকরা।