হরমুজ প্রণালি অচল করার সক্ষমতা ইরানের: দীর্ঘমেয়াদী সংকটের শঙ্কায় বিশ্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ড্রোন ও সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে মাসের পর মাস অচল করে রাখার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। সামরিক বিশ্লেষক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যে এমন আশঙ্কাজনক চিত্র উঠে এসেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী, যা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।
গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলিয়েন্স’ (সিআইআর) এর মতে, ইরান প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে। ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও বাণিজ্যিক লক্ষ্যবস্তুতে এক হাজারের বেশি ড্রোন এবং কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এর ফলে ৬টি জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১২ শতাংশ এবং ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে ইরানের কাছে ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ড্রোন ও সমুদ্র মাইন ইরানের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থা ‘ড্রায়াড গ্লোবাল’ জানিয়েছে, ইরানের ভাণ্ডারে ৫ থেকে ৬ হাজার সমুদ্র মাইন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই জলপথে মাইন বিছিয়ে দেয়, তবে তা পরিষ্কার করে পথটি নিরাপদ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ইরানের সর্বশেষ প্রজন্মের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনগুলো ১০০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। ইতিমধ্যে দুবাই বিমানবন্দর ও আমাজনের ডাটা সেন্টারসহ বাহরাইনের মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যদি মাত্র কয়েকটি ট্যাঙ্কারে আঘাত করে এই পথ অনিরাপদ প্রমাণ করতে পারে, তবে আতঙ্কেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে।
বিশ্ব রাজনীতির এই দাবার চালে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আজ হুমকির মুখে। সমুদ্রের নীল জলরাশি যখন বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে, তখন তার ঢেউ আছড়ে পড়ে প্রতিটি দেশের রান্নাঘরে ও অর্থনীতিতে। শক্তির মহড়া নয়, বরং সংযম ও আলোচনার মাধ্যমেই এই রুদ্ধদ্বার পরিস্থিতির অবসান হওয়া জরুরি। পৃথিবী আবার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাক এবং শান্তির সুবাতাস বইতে থাকুক প্রতিটি বন্দরে এটাই শান্তিকামী বিশ্ববাসীর প্রার্থনা।