ইরানে হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে নিজ নাগরিকদের অবিলম্বে ইসরায়েল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সাথে মার্কিন নাগরিকদের আপাতত ইসরায়েল ভ্রমণে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। সাতাশ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় এই সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়। জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ক তৃতীয় দফার আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পরদিনই এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে যতক্ষণ বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে সেই সময়ের মধ্যেই নাগরিকদের ইসরায়েল ছাড়ার পরিকল্পনা করতে হবে। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জরুরি ভিত্তিতে দেশ ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আগে ইসরায়েল সীমান্ত থেকে বের হওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যে কোনো দেশের বিমানের টিকিট সংগ্রহ করে নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকেই পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই যুদ্ধের দামামা থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও সমানতালে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি জরুরি ভিত্তিতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানে সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। তিনি ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে আলোচনার টেবিলে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়েছে এবং এই মুহূর্তে কোনো সামরিক হামলা শান্তি প্রক্রিয়ার গতি থামিয়ে দিতে পারে।
বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থির সময়ে প্রতিটি জীবনের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্কে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তখন সাধারণ মানুষের স্বপ্নগুলো ধুলোয় মিশে যায়। যুদ্ধের বিভীষিকা কারো জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না বরং তা কেবল ধ্বংস আর দীর্ঘশ্বাস উপহার দেয়। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শক্তির দাপট ছাপিয়ে যেন শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে এবং প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ দেশে নিরাপদে বসবাস করতে পারে এটিই আজ বিশ্ববাসীর প্রার্থনা। অস্ত্রের চেয়ে আলোচনার শক্তি যে অনেক বেশি তা অনুধাবন করে বিশ্বনেতারা একটি শান্তিময় পৃথিবীর পথ দেখাবেন এই প্রত্যাশায় আজ বুক বেঁধেছে মানবতার প্রতিটি প্রাণ। মানুষের রক্তে যেন আর কোনো জনপদ রঞ্জিত না হয় এবং আগামী দিনের সূর্য যেন শান্তির বার্তা নিয়ে উদিত হয়।