চুক্তি না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটবে’; ইরানকে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা নিয়ে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ইরানকে ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় দেশটিকে ভয়াবহ সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্পের এই আলটিমেটাম এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে এবং ওমান ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ:
* ১০ দিনের সময়সীমা: ট্রাম্প বলেন, “হয়তো আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, আবার নাও হতে পারে। আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই আপনারা তা জানতে পারবেন।”
* সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি: গত বছরের (২০২৫) জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, সেই হামলাই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ প্রশস্ত করেছে। এবারও চুক্তি না হলে “আরও এক ধাপ এগোতে হতে পারে” বলে তিনি হুমকি দেন।
* অর্থবহ চুক্তির দাবি: ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর উপদেষ্টাদের বৈঠক হলেও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অর্থবহ’ চুক্তি চায়। তা না হলে “খারাপ কিছু ঘটবে” বলে তিনি উল্লেখ করেন।
* বোর্ড অব পিস: গাজায় যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প এই বোর্ড গঠন করেছেন, যেখানে প্রায় ২৭টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি:
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ এবং ‘অগ্রগতিশীল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরান মূলত তাদের পারমাণবিক অধিকার রক্ষা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানাচ্ছে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং শক্তিশালী যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের দেওয়া এই ১০ দিনের সময়সীমার মধ্যে কূটনৈতিক কোনো সমাধান আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।