যুদ্ধের মেঘ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপ: ট্রাম্পের ইরান নীতিতে দোদুল্যমান হোয়াইট হাউস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের যে পথে হাঁটছেন, তা দেশটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তাঁর প্রশাসনের ভেতরেই এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর মতভেদ। বিশেষ করে চলতি বছরের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রে এই উত্তেজনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:
১. সামরিক প্রস্তুতি বনাম জনমত
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করেছেন। কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও তাঁর নির্দেশে তৈরি করা হয়েছে। তবে জনমত জরিপ বলছে ভিন্ন কথা:
* জনগণের অগ্রাধিকার: সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বর্তমানে যুদ্ধের চেয়ে 'জীবনযাত্রার ব্যয়' বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
* ব্যাখ্যার অভাব: ১৯৭৯ সালের পর ইরানের বিরুদ্ধে কেন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ট্রাম্প এখন পর্যন্ত জনগণের কাছে দেননি।
২. প্রশাসনের ভেতরে অনৈক্য
হোয়াইট হাউসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে কোনো ‘একীভূত সমর্থন’ নেই।
* সহযোগীদের উদ্বেগ: ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ভয় পাচ্ছেন যে, যুদ্ধের দিকে বেশি নজর দিলে ভোটারদের কাছে একটি ‘বিভ্রান্ত বার্তা’ পৌঁছাতে পারে, যা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
* অর্থনৈতিক ফোকাস: উপদেষ্টারা চাইছেন ট্রাম্প যেন যুদ্ধের বদলে ভোটারদের পকেটের অবস্থার (অর্থনীতি) দিকে বেশি মনোযোগ দেন।
৩. হামলার অস্পষ্ট কারণসমূহ
ট্রাম্প তাঁর সম্ভাব্য হামলার কারণ হিসেবে একেক সময় একেকটি যুক্তি সামনে এনেছেন, যা পর্যবেক্ষকদের কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছে:
* বিক্ষোভ দমন: শুরুতে ইরানে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের প্রতিবাদে হামলার কথা বলেছিলেন।
* পারমাণবিক কর্মসূচি: বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়টি প্রধান অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
* শাসন পরিবর্তন: তিনি ‘শাসন পরিবর্তন’ (Regime Change)-এর ধারণাও তুলে ধরেছেন, যদিও বিমান হামলা চালিয়ে কীভাবে তা সম্ভব হবে, তার কোনো রোডম্যাপ নেই।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি:
ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তারা তীব্র প্রতিশোধ নেবে। আন্তর্জাতিক মহলে নিজের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টায় ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত হামলার নির্দেশ দেন, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।