প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যবহৃত স্মার্টফোনের বিশেষ নিরাপত্তা ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ব্যবহৃত একটি বিশেষ প্রযুক্তির স্মার্টফোনের ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকের নকশা এবং উচ্চতর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে এই ডিভাইসটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
শুক্রবার প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে জানা যায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত এই বিশেষ ফোনটি সিরিন ল্যাবস নির্মিত সিরিন ফিননি মডেলের একটি স্মার্টফোন। এটি বিশ্বের প্রথম ব্লকচেইনভিত্তিক স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত যা মূলত ২০১৮ সালে বাজারে আসার পর বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের নজর কেড়েছিল। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর সমৃদ্ধ এই ফোনে সিরিন ল্যাবসের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে যার প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর তথ্যের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এই ডিভাইসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর স্লাইডিং নিরাপত্তা স্ক্রিন। মূল ফোনের উপরের অংশে থাকা এই বিশেষ স্ক্রিনটি কেবল সঠিক পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মাধ্যমেই সচল হয়। ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এতে সংরক্ষিত তথ্য পরিবর্তন বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি নেই বললেই চলে যা অননুমোদিত প্রবেশ প্রায় অসম্ভব করে তোলে। এছাড়া ফোনে একটি কোল্ড স্টোরেজভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট রয়েছে যা ইন্টারনেটের মূল সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্য চুরির ভয় থাকে না।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় এমন উন্নত প্রযুক্তির ফোন ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। সিরিন ল্যাবসের এই স্মার্টফোনগুলোর বাজারমূল্য সাধারণত ৯৯৯ থেকে ৩৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। আধুনিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই নয় বরং ডিজিটাল যুগে তথ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সময়ের প্রয়োজনে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত আস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে যা ভবিষ্যতের নিরাপদ ডিজিটাল বিশ্বের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।