ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের কোনো সুযোগ নেই: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। শনিবার ১৪ মার্চ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অর্ধশিক্ষিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠনের যে তথ্যটি ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিচালনার জন্য অর্ধশিক্ষিত নয় বরং শিক্ষাক্ষেত্রে যাদের প্রকৃত অবদান ও অনুরাগ রয়েছে তাদের নিয়েই কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ধাপে ধাপে কাজ চলছে এবং সেখানে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বই অগ্রাধিকার পাবে। এ সময় তিনি পুরনো পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন যে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত নিয়ম প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কচুয়াকে দেশের শিক্ষার রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন যে নিজের ঘর থেকেই সংস্কার শুরু করা প্রয়োজন এবং এখান থেকেই মানসম্মত শিক্ষার আলো সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি অনুরোধ জানান যেন যে কোনো বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ না করে প্রকৃত সত্যটি জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ বাড়বে যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় শিক্ষার ভিতকে আরও মজবুত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা আর সেই মেরুদণ্ড রক্ষার দায়িত্ব যখন যোগ্য ও সুশিক্ষিত মানুষের হাতে থাকে তখন জাতির ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও নিরাপদ। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত সমাজ গড়তে হলে আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে চাই নিষ্ঠাবান ও মেধাবী নেতৃত্ব। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি ছাত্রছাত্রী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হবে এবং বৈষম্যের অন্ধকার মুছে গিয়ে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে শিক্ষার অকৃত্রিম সুফল। সুন্দরের এই অভিযাত্রায় অটল থেকে সত্যের পথে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি ললাটে অঙ্কিত হবে সমৃদ্ধির জয়তিলক। সাহসের সাথে সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে এভাবেই আমরা গড়ে তুলব এক শান্তিময় ও আলোকিত বাংলাদেশ।