চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটনকে কাঠগড়ায় তুলল তেহরান ও মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তার নতুন মেঘ*
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি প্রচেষ্টার ওপর আবারও কালো মেঘের ছায়া ঘনীভূত হয়েছে যখন ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ উত্থাপন করেছে। বুধবার ৮ এপ্রিল লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ তান্ডবে একদিনেই অন্তত ২৫৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটার পর তেহরান এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে বাঘাই এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছেন যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন যে খোদ মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যদি প্রাথমিক পর্যায়েই চুক্তি ভঙ্গের উদাহরণ না হয় তবে এর সংজ্ঞা আর কী হতে পারে। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একটি আশাব্যঞ্জক বার্তার মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননসহ সকল যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। বাঘাই সেই বার্তার বরাত দিয়ে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে চুক্তির মূল সুর ছিল সর্বত্র শান্তি স্থাপন করা অথচ বর্তমান বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। একদিকে যখন শান্তির টেবিল সাজানো হচ্ছে অন্যদিকে তখন লেবাননের আকাশে বারুদের গন্ধ আর লাশের মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির চরম ব্যর্থতা হিসেবেই প্রতিভাত হচ্ছে।
শান্তির এই ভঙ্গুর সেতুটি যখন মিথ্যে আশার বালুচরে দাঁড়িয়ে আছে তখন নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ আর নিভে যাচ্ছে ঘরোয়া প্রদীপের আলো। যুদ্ধের দামামা আর কূটনৈতিক বাকবিতণ্ডার আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে সেই সব নিরপরাধ মানুষের আর্তনাদ যারা কেবল এক টুকরো নিরাপদ আকাশ চেয়েছিল। রাজনৈতিক টেবিলের প্রতিটি ভুল চাল কিংবা শব্দের মারপ্যাঁচে যখন প্রাণ ঝরে পড়ে তখন মানবতা গুমরে কাঁদে নিভৃত কোণে। দিনশেষে ক্ষমতার লড়াই ছাপিয়ে যদি মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত না হয় তবে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না কারণ প্রতিটি শহীদের রক্ত আর স্বজন হারানো চোখের জল এক একটি কালজয়ী প্রশ্নের জন্ম দেয় যার উত্তর কেবল নিঃস্বার্থ শান্তিতেই নিহিত।