পরিবর্তিত বিশ্ব রাজনীতিতে অকার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা নীতি
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে সতর্ক করে আসলেও বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে এই ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পারলেও সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক অস্ত্রকে আরও ভোঁতা ও প্রভাবহীন করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুসারে বর্তমান যুদ্ধকালীন সংঘাত আঞ্চলিক ও বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এমন এক পরিবর্তন নিয়ে আসছে যা দীর্ঘদিনের মার্কিন অবরোধের শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে যে নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখন মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় বাণিজ্যের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। ডি-ডলারাইজেশন বা ডলার বিহীন বাণিজ্য ব্যবস্থার এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির প্রচলিত ধারাকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করছে যা পশ্চিমা শক্তির জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন অর্থব্যবস্থাকে এড়িয়ে চলার লক্ষ্যে বর্তমানে আন্তর্জাতিক পণ্য বিনিময় বা বার্টার সিস্টেম এবং বিকল্প অনানুষ্ঠানিক লেনদেন ব্যবস্থার ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ইরান ও তার বাণিজ্যিক সহযোগীদের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধগুলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। দায়িত্বশীল অর্থনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন যে বিশ্বরাজনীতির এই নতুন মেরুকরণ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একক কোনো মুদ্রার আধিপত্য কমিয়ে একটি বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামোর পথ প্রশস্ত করছে।