জ্বালানির চড়া মূল্যে সংকটে ভারতের বিমান খাত এবং কার্যক্রম বন্ধের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে ভারতের বিমান চলাচল খাতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে যা দেশটির একাধিক বেসরকারি বিমান সংস্থাকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে বিমান জ্বালানির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও আন্তর্জাতিক রুটের জ্বালানি বা এটিএফের মূল্য লিটার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে ৭৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে টাটা মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়াসহ ইন্ডিগো ও স্পাইসজেটের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস বা এফআইএ সম্প্রতি দেশটির বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছে যে জ্বালানির এই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি সংস্থাগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা বা জরুরি হস্তক্ষেপ না মিললে অসংখ্য ফ্লাইট বাতিলসহ অনেক বিমান চিরতরে বসিয়ে রাখতে হতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো এখন সবথেকে বেশি আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সংকট উত্তরণে সংস্থাগুলো অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে অভিন্ন জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালুর পাশাপাশি ১১ শতাংশ আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।
ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সংকটের এই প্রত্যক্ষ কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয় যা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন এবং একই সঙ্গে জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার কী ধরণের পদক্ষেপ নেয় তার ওপরই নির্ভর করছে ভারতের বিমান চলাচল খাতের ভবিষ্যৎ।