ইরান ইস্যুতে মিত্রদের ধৈর্যচ্যুতি এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একাকীত্ব
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা বিশ্বের মিত্র দেশগুলো বিশেষ করে ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহ এখন ক্রমশ ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশিষ্ট বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন যে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সময় এখন আর কোনো পক্ষের অনুকূলে নেই। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জের সাম্প্রতিক এক বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে এই গবেষক জানান যে ইরানের দক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার প্রশংসা করে দেওয়া চ্যান্সেলরের বক্তব্য মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর মিত্রদের ক্রমবর্ধমান চাপের বহিঃপ্রকাশ। ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে যে মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান নীতি তাদের একটি বড় ধরণের আঞ্চলিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে যা সমাধান করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। চ্যান্সেলর মার্জের এমন সরাসরি অবস্থান মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে বেশ অস্বস্তিকর বার্তা বহন করছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে মোহাম্মদ এলমাসরি আরও বলেন যে ইউরোপীয় মিত্রদের এই বিরূপ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে বৈশ্বিক অঙ্গনে দিন দিন কোণঠাসা ও বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের পক্ষ থেকে আসা এমন সমালোচনা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থান এখন খোদ তার মিত্রদের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ। এই কূটনৈতিক দূরত্ব ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তার একক আধিপত্য রক্ষার লড়াইয়ে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।