কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ; ভেনেজুয়েলা সফরের ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে এক ঐতিহাসিক সফরের ঘোষণা দিয়েছেন যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন এক মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে বিশেষ অভিযানে সরিয়ে নেওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর ট্রাম্পের এই সফরের ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে তাঁর বিদ্যমান সম্পর্কের প্রশংসা করে জানান যে দেশটির বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ইতিবাচক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি ভেনেজুয়েলার বর্তমান অবস্থাকে অত্যন্ত সন্তোষজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে তাদের সঙ্গে বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তিনি দশে দশ দেবেন। ট্রাম্পের মতে দেলসি রদ্রিগেজের অধীনে ভেনেজুয়েলা তেল উত্তোলন ও বিপণনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছে যা উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে মার্কিন বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নে এই সম্পর্ক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে সেই পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে মার্কিন প্রশাসন নিয়মিতভাবে ভেনেজুয়েলার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে। উল্লেখ্য যে গত ৪ জানুয়ারি কারকাসে এক ঝটিকা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটকের পর থেকেই ভেনেজুয়েলায় নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও তেল খাতের আইন সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা হোয়াইট হাউসের নজর কেড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ভেনেজুয়েলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সম্ভাব্য সফর একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনর্প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভেনেজুয়েলার তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হতে পারে।
যুদ্ধের দামামা আর বৈরিতার পরিবর্তে সংলাপ ও সহযোগিতার এই নতুন পথ প্রতিটি জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক। আমরা এমন এক শান্তিময় পৃথিবীর প্রত্যাশা করি যেখানে কূটনীতির জয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হবে সমগ্র বিশ্ব।