হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে আরও একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত একটি নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২ মার্চ সোমবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা ইউকেএমটিও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায় যে ওমানের উত্তর দিকে এবং হরমুজ প্রণালির পূর্ব অংশে অবস্থানকালে একটি জাহাজ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। অজ্ঞাত বস্তুটির আঘাতে জাহাজটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ইউকেএমটিওর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে প্রাথমিক খবরে জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে ভয়াবহ আগুন লাগার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে বর্তমানে ক্রু সদস্যদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জাহাজটির বর্তমান অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য যে হরমুজ প্রণালির ওমান সংলগ্ন কুমজারের অদূরে এটি ছিল গত চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ইউকেএমটিওর নথিবদ্ধ দ্বিতীয় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এর আগে আরেকটি জাহাজ একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান ও ইসরায়েল কেন্দ্রিক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের হামলাগুলো আন্তর্জাতিক নৌপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সমুদ্রের নীল জলরাশি যখন যুদ্ধের বারুদে বিষাক্ত হয়ে ওঠে তখন বিশ্ব অর্থনীতির চাকা থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়। শান্তিময় বাণিজ্যের এই পথগুলোতে কামানের গোলা আর অজ্ঞাত অস্ত্রের আঘাত কেবল জাহাজের ক্ষতি করে না বরং এটি বিশ্বশান্তির ওপর এক বড় আঘাত। আমরা আশা করি আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপে দ্রুত এই অস্থিরতা কেটে যাবে এবং সমুদ্রপথগুলো আবারও সবার জন্য নিরাপদ হয়ে উঠবে। প্রতিটি নাবিক আর জাহাজের নিরাপত্তা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে এবং ধ্বংসের বদলে সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয় এটিই আজ সময়ের দাবি। আগামীর সূর্য যেন কোনো ধ্বংসের খবর নয় বরং নিরাপদ বাণিজ্যের বার্তা নিয়ে উদিত হয়।