তেহরানে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন খামেনি
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রাজধানী তেহরানে তাঁর নিজস্ব কার্যালয়ে অবস্থানকালীন সময়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। ২ মার্চ সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শনিবার ভোরে যখন তেহরানের কেন্দ্রস্থলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালানো হয় তখন তিনি তাঁর ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে যে তেহরানে অবস্থিত খামেনির প্রধান কার্যালয় ও বাসভবন কমপ্লেক্সটি হামলার ফলে ধসে পড়েছে এবং চারপাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে যে হামলার সময় তিনি নিজ দপ্তরেই অবস্থান করছিলেন এবং সেখানেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কেবল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না বরং তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর ইরানে বর্তমানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে যা পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে। শিয়া ধর্মতত্ত্বে সর্বোচ্চ সম্মানীয় পদবী আয়াতুল্লাহধারী এই নেতার বিদায় ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
ক্ষমতার এই বড় পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ পুরো ইরান এক ঐতিহাসিক শোক ও সংকটের মুখোমুখি। এক নেতার বিদায় অন্য নেতার আগমনের চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশটির সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আগামীর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে ইরান কি পারবে এক নতুন ভোরের সন্ধান পেতে? প্রতিহিংসা আর ধ্বংসের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কল্যাণ ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে বিশ্বনেতারা কী ভূমিকা নেন সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রতিটি অমূল্য জীবন যেন সুরক্ষিত থাকে এবং আগামীর পৃথিবী যেন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয় এটিই আজ প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের অন্তিম প্রার্থনা।