মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকটে আমিরাত ও ইসরাইল শীর্ষ নেতৃত্বের বিরল ফোনালাপ
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের দামামার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ মোড় লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে আলাপ করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। শনিবার (৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজের বরাতে এই আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে এই সরাসরি যোগাযোগকে অত্যন্ত বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার যখন ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানি ভূখণ্ডে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দেয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে সম্ভাব্য এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে এই জরুরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আমিরাত সবসময়ই ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণের চেষ্টা করে। তবে বর্তমান সময়ে যুদ্ধের বিস্তৃতি রোধ এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই মূলত এই বিশেষ ফোনালাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংঘাতের এই আবহে কোনো পক্ষই চায় না যে আগুন প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমানায় ছড়িয়ে পড়ুক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই আলোচনাকে উত্তেজনার পারদ কিছুটা প্রশমনের একটি চেষ্টা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পৃথিবীর এই সংকটময় মুহূর্তে যখন বারুদের গন্ধে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে তখন সংলাপের প্রতিটি শব্দই শান্তির এক একটি বীজের মতো কাজ করে। সীমানার বিভেদ আর আদর্শের লড়াই ছাপিয়ে দিনশেষে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর আঞ্চলিক স্থিতিই হোক সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। যুদ্ধের ধ্বংসলীলার চেয়ে শান্তির সুবাতাসই পৃথিবীর প্রতিটি জনপদকে নিরাপদ রাখতে পারে কারণ অস্ত্রের আস্ফালন কেবল ক্ষত তৈরি করে কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসে নেওয়া সিদ্ধান্তই অনাগত প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিময় বিশ্ব উপহার দিতে পারে। এভাবেই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে অন্ধকার মেঘ কেটে গিয়ে ফিরে আসুক কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি।