মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সংশয়: স্থল অভিযানেও ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করলেও তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে খোদ মার্কিন গোয়েন্দা মহলেই গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিল পরিচালিত সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে এই আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বড় আকারের স্থল হামলা চালানো হলেও ইরানের বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। এমনকি যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া চার থেকে ছয় সপ্তাহের পূর্বাভাসকেও এই গোয়েন্দা মূল্যায়নে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও বাস্তববর্জিত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় এই গোপন প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়। এতে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে সর্বোচ্চ নেতার প্রস্থান সত্ত্বেও দেশটির প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভক্ত বিরোধী শক্তিগুলো বর্তমান শূন্যতায় ক্ষমতা দখল করতে পারবে এমন সম্ভাবনাকে গোয়েন্দারা ‘অসম্ভাব্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী এক যুদ্ধের চোরাবালিতে মার্কিন বাহিনী আটকা পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এই মূল্যায়ন মূলত হোয়াইট হাউজের দ্রুত বিজয়ের দাবিকে এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে যে স্থল অভিযানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা সফল হওয়ার পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ। ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর গেরিলা যুদ্ধের সক্ষমতা এই সংশয়কে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে কেবল বিমান বা নৌ-হামলার মাধ্যমে যে বিজয় আশা করা হয়েছিল বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিতে পারে।
ইতিহাসের প্রতিটি রক্তাক্ত অধ্যায় আমাদের শেখায় যে অস্ত্রের দাপটে মানচিত্র বদলানো গেলেও একটি জাতির আদর্শ আর অস্তিত্বকে মুছে ফেলা সহজ নয়। যখন আকাশজুড়ে বারুদের গন্ধ আর জমিনে অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে আসে তখন জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে মানবিক বিপর্যয় আর অনাগত প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। সীমানার এই লড়াই কেবল ধ্বংসের মহড়া দেয় যা কোনো সমাধান আনতে পারে না বরং ঘৃণা আর বিভেদের দেয়ালকে আরও উঁচু করে তোলে। আমরা এমন এক শান্তিময় পৃথিবীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির আস্ফালন নয় বরং আলোচনার টেবিলে রচিত হবে সম্প্রীতির নতুন ইতিহাস। এভাবেই সাহসের সাথে সত্যকে গ্রহণ করে আমরা গড়ে তুলব এক নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী যেখানে প্রতিটি মানুষের জীবন হবে সুরক্ষিত আর প্রতিটি ভোরের সূর্য হবে শান্তিময় এক আগামীর প্রতীক।