ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলাকে অনৈতিক ও অবৈধ ঘোষণা করল ওমান
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে অনৈতিক ও অবৈধ বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে ওমান। ৯ মার্চ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বিশেষ বিবৃতিতে এই অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে গৃহীত এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং এটি এই অঞ্চলের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। শান্তি ও মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত ওমানের এই কড়া প্রতিবাদ বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিবৃতিতে ভারসাম্য বজায় রেখে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের পক্ষ থেকে চালানো পাল্টা হামলাকেও দুঃখজনক ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন যে এক পক্ষের আগ্রাসন অন্য পক্ষের পাল্টা হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘাতের মাত্রা আর না বাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। মাস্কাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আলোচনার মাধ্যমেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান সম্ভব।
মরুভূমির তপ্ত বালুর মতো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি যখন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তখন ওমানের মতো দেশগুলোর শান্তিপ্রিয় অবস্থান মানুষের মনে কিছুটা আশার সঞ্চার করে। কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই কখনও কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না বরং তা কেবল ধ্বংস আর হাহাকার ডেকে আনে। সীমানার এই লড়াই যখন সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তোলে তখন শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি। আমরা আশা করি যুদ্ধের এই উন্মাদনা থেমে গিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে এবং প্রতিটি রাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এক শান্তিময় ও নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তুলবে। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই হোক সংঘাতের বিপরীতে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।