ইরানের তেলসম্পদ দখলের গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ তেলসম্পদ কুক্ষিগত করতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে বিভক্ত করার নীল নকশা তৈরি করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই দাবি করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটনের বর্তমান আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে দুর্বল করে দেশটির বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডারের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। বাঘাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই যৌথ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের মর্যাদার ওপর এক বড় আঘাত।
সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন যে, যখন ইরান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে সেই উদ্যোগকে ভেস্তে দিয়ে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ কোনো বিদেশি শক্তি নয়, বরং দেশটির সাধারণ মানুষই নির্ধারণ করবে এবং তারা নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এছাড়া তিনি দাবি করেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে গোলাবর্ষণের যে খবর প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইরান ও তার মিত্রদের মধ্যে ফাটল ধরাতে এটি একটি পরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ আক্রমণ হতে পারে।
বাঘাই আরও সতর্ক করে বলেন যে, ইরানের তেল ও ভেনেজুয়েলার তেলসহ বিশ্বের প্রায় ৩১ শতাংশ জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোনো ধরনের আগ্রাসন রুখতে সক্ষম এবং দেশ রক্ষা করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। চলমান এই উত্তেজনার মাঝে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের দামামা যত বাড়ছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব তত গভীর হচ্ছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই ধারা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও এক অনিশ্চিত অস্থিরতা বিরাজ করছে।
কামানের গর্জন আর ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় যখন শান্ত দিগন্ত ঝাপসা হয়ে আসে, তখন তার সবচেয়ে বড় শিকার হয় সাধারণ মানুষ আর একটি জাতির সার্বভৌমত্ব। খনিজ সম্পদের এই লড়াই মানবতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সীমানার সংঘাত কেবল ধ্বংসই বয়ে আনে কিন্তু আলোচনার টেবিলই পারে স্থায়ী শান্তির সমাধান দিতে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একে অপরের সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং অস্ত্রের আস্ফালন থেমে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের জয় হবে। সত্য আর ন্যায়ের এই পথ ধরে একদিন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শান্তির কপোত উড়বে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তাদের হারানো নিরাপত্তা ও সুন্দর এক পৃথিবী।