হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচলে মুসলিম ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে বিশেষ প্রস্তাব দিল ইরান
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে আরব ও ইউরোপের দেশগুলোর জন্য এক বিশেষ শর্তযুক্ত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরান জানিয়েছে যে কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করে এবং এই দুই দেশের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয় তবেই কেবল তাদের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের এই অবস্থানকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক বিশাল কৌশলগত চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন যেখান দিয়ে পৃথিবীর মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। আইআরজিসির এই প্রস্তাব মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে যারা তাদের শত্রুদের সাথে মিত্রতা বজায় রাখবে তাদের জন্য এই স্পর্শকাতর জলপথটি আর নিরাপদ থাকবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি তার প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের এই দ্বন্দ্বে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ইতোমধ্যে বড় ধরনের ধস নামার উপক্রম হয়েছে। হরমুজ প্রণালি অচল হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে যা প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই জলপথটি যদি দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তবে সমগ্র বিশ্ব এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকটের মুখে পড়বে। তাই কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে এখন তাকিয়ে আছে সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ।
সমুদ্রের নীল জলরাশি যখন যুদ্ধের দামামায় উত্তাল হয়ে ওঠে তখন তার ঢেউ কেবল তীরে নয় বরং প্রতিটি মানুষের রান্নাঘরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে মুক্ত বাণিজ্য আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রতিটি জলপথ সবার জন্য নিরাপদ থাকবে। কামানের গর্জন আর অবরোধের সংস্কৃতি কখনও স্থায়ী মুক্তি আনতে পারে না বরং তা কেবল সাধারণ মানুষের কষ্টই বাড়িয়ে দেয়। বিভেদ আর ঘৃণার দেয়াল ভেঙে সংলাপের টেবিলে বসে যদি এই সংকটের সমাধান হয় তবেই মানবতা জয়ী হবে। প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকুক এবং শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করুক পারস্য উপসাগর থেকে আটলান্টিক পর্যন্ত প্রতিটি কোণে। এভাবেই সাহসের সাথে অন্ধকারের পথ মাড়িয়ে আমরা খুঁজে পাব এক নিরাপদ ও উজ্জ্বল পৃথিবী।