নিহত হওয়ার গুঞ্জনের মাঝেই ইরানের শাসনব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিলেন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র গুঞ্জনের মধ্যে নতুন বার্তা প্রদান করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা চললেও এক লিখিত বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকারের শাসন থেকে মুক্ত করা। তবে শেষ পর্যন্ত দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব ইরানের জনগণের ওপরই নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ইরানের মূল শক্তি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছেন এবং তাদের এই বিশেষ অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
গুঞ্জন নিরসনের লক্ষে টাইমস অব ইসরায়েল মঙ্গলবার নেতানিয়াহুর একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে যা গত সোমবার অর্থাৎ ৯ মার্চের বলে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির হিব্রু ভার্সন নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার বা গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দেয়। তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে গত তিন দিন ধরে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত চ্যানেল থেকে কোনো ভিডিও বার্তা আসেনি এবং ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রেও চার দিনের ব্যবধান ছিল। প্রতিদিন একাধিক ভিডিও প্রকাশে অভ্যস্ত নেতার এই আকস্মিক নীরবতা এবং কেবল লিখিত বিবৃতি প্রচার জনমনে সন্দেহের দানা বাঁধতে সাহায্য করে। এছাড়া ৮ মার্চ থেকে তার বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে জোরদার করা এবং ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়ার খবরও সামনে আসে।
নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয় যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর হঠাৎ বাতিল করা হয়। এমনকি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে তার কথিত টেলিফোন আলাপের বিষয়েও ফরাসি প্রাসাদের বিবৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। এসব অসংগতি ও হিব্রু ভাষার বিভিন্ন মাধ্যমে চলা আলোচনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ছবি ও বার্তার মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে যে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় রয়েছেন। তবে সরাসরি ভিডিও বার্তার অনুপস্থিতি এখনও অনেক পর্যবেক্ষককে সন্দিহান করে রাখছে।
বারুদের ধোঁয়া আর যুদ্ধের দামামায় যখন সত্য ও মিথ্যার রেখা ঝাপসা হয়ে আসে তখন গুজব ডালপালা মেলাটাই স্বাভাবিক। যখন কোনো শীর্ষ নেতার ভাগ্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় তখন তার প্রভাব কেবল একটি দেশের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা সমগ্র বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে কম্পন সৃষ্টি করে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে সংঘাত আর অনিশ্চয়তার বদলে স্বচ্ছতা ও শান্তির পরিবেশ বজায় থাকবে। অস্ত্রের আস্ফালন আর শাসন পরিবর্তনের হুমকির চেয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক বিশ্বনেতাদের প্রধান লক্ষ্য। অন্ধকার কাটিয়ে সত্যের আলো দ্রুতই প্রকাশিত হবে এবং প্রতিটি জনপদ ফিরে পাবে তার হারানো স্থিতিশীলতা—এটাই আমাদের কাম্য। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করে শান্তি ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে চলুক মানবসভ্যতা।