ইরানের অর্ধশতাধিক নৌযান ধ্বংসের দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনীর
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে দেশটির নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১১ মার্চ ২০২৬ ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর জেনারেল ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন সাংবাদিকদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে যুদ্ধের প্রথম ১০ দিনে মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ইরানের নৌযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জেনারেল কেইনের দাবি অনুযায়ী মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত ইরানের ৫০টিরও বেশি নৌযান সাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে যা তেহরানের সামুদ্রিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে এই বিশেষ অভিযানে তারা মূলত ইরানের মাইন স্থাপনকারী নৌযানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করেছে। জেনারেল কেইন উল্লেখ করেন যে ইরান সমুদ্রসীমায় মাইন পেতে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর চলাচলে বাধা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল তবে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মুখে সেই তৎপরতা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে ইরান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও যুদ্ধের ময়দানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় ইরানের সামরিক আধিপত্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি সত্য হলে মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ইরান ঐতিহ্যগতভাবে তাদের ক্ষুদ্র ও দ্রুতগামী নৌযান এবং মাইন স্থাপনের কৌশলের ওপর নির্ভর করে আসছিল কিন্তু মার্কিন বিমান ও নৌ হামলার মুখে সেই কৌশল এখন প্রশ্নের মুখে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ জলপথে এই অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
অস্ত্রের গর্জন আর যুদ্ধের ভয়াবহতা যখন সমুদ্রের নীল জলরাশিকে বিষাক্ত করে তোলে তখন তার ক্ষত কেবল সাগরে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং তা সমগ্র বিশ্ব মানবতার হৃদয়ে আঘাত হানে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির লড়াই নয় বরং আলোচনার টেবিলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবে। প্রতিহিংসার অনলে পুড়ে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন যেন ছাই হয়ে না যায় এবং প্রতিটি মানুষ যেন নির্ভয়ে তাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা। অন্ধকার আর ধ্বংসের এই দেয়াল ভেঙে একদিন শান্তির সুবাতাস বইবে এবং প্রতিটি জনপদ ফিরে পাবে তার হারানো গৌরব ও সমৃদ্ধি। সাহসের সাথে সত্যের পথে চলেই আমরা জয় করব আগামীর সকল অনিশ্চয়তা এবং প্রতিটি মানুষের জীবনে ফিরে আসবে স্বস্তি ও নিরাপত্তা। এভাবেই মানবতার জয় হোক আর ঘুচে যাক যুদ্ধের এই কালো মেঘ।