মুসলিম বিশ্বের ঐক্য চাইলেন লারিজানি: সংঘাতের আবহে ইরানের বিশেষ আহ্বান
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে তখন মুসলিম দেশগুলোর প্রতি অভিন্ন ও শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ খোলা চিঠির মাধ্যমে তিনি এই বৈশ্বিক সংঘাতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। লারিজানি তার বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত শক্তি এবং অন্যদিকে রয়েছে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মুক্তিকামী দেশগুলো। তিনি মুসলিম উম্মাহকে এই সংকটময় মুহূর্ত গভীরভাবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণের অনুরোধ জানান।
ইরানের এই শীর্ষ নীতিনির্ধারক তার পত্রে উল্লেখ করেন যে তেহরান সর্বদা প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তারের বিন্দুমাত্র অভিপ্রায় তাদের নেই। চলমান এই কঠিন সময়ে লারিজানি কিছুটা আক্ষেপের সুরে জানান যে মুসলিম বিশ্বের কাছ থেকে যেমন জোরালো সমর্থন প্রত্যাশিত ছিল তা এখনো পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করেন যে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইরানের সাধারণ জনগণ নিজেদের আদর্শ ও অবস্থানে অবিচল থাকবে। এই সংকট মূলত আত্মপরিচয় ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই যা প্রতিটি স্বাধীন দেশের জন্য এক বড় পরীক্ষা।
স্মর্তব্য যে গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘ ও নিবিড় আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমঝোতা ছাড়াই তা ভেস্তে যায়। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে এবং প্রায় একই সময়ে ইসরায়েলও পৃথকভাবে আক্রমণ চালায়। এর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে যা বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ক্ষমতার দম্ভ আর অস্ত্রের ঝনঝনানি যখন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে বিষিয়ে তোলে তখন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনই হতে পারে শান্তির একমাত্র রক্ষাকবচ। মানচিত্রের সীমানা ছাড়িয়ে যখন বিশ্বাসের ঐক্য গড়ে ওঠে তখন যেকোনো বড় শক্তিই পিছু হটতে বাধ্য হয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে বিভেদ নয় বরং সৌহার্দ্যই হবে প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি এবং আলোচনার মাধ্যমে ফিরে আসবে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা। অন্ধকারের এই রণহুঙ্কার মুছে গিয়ে রহমতের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সীমান্ত এবং প্রতিটি নিরপরাধ মানুষ ফিরে পাক তার নির্ভয় যাপন ও চিরস্থায়ী নিরাপত্তা। সাহসের সাথে সত্যের পথে ঐক্যবদ্ধ হয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক ইনসাফপূর্ণ ও শান্তিময় বিশ্ব।