জৈন্তাপুরে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পুলিশের ধারাবাহিক সাফল্য
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক, ভারতীয় পণ্য ও চোরাচালানে ব্যবহৃত যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।
সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী, জৈন্তাপুর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৫টি মামলা হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ হাজার ২৪৭ পিস ইয়াবা ও জিডির মাধ্যমে ১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।
একই সময়ে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও ১৫০ পিস ইয়াবা, ১ কেজি গাঁজা ও ২৭ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের অভিযানে মোট ২ হাজার ৩৯৭ পিস ইয়াবা এবং ৩৭ বোতল মদ উদ্ধার হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানের চিত্রও উল্লেখযোগ্য। সেপ্টেম্বর মাসে জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ৪টি চোরাচালান মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৫০টি ভারতীয় কম্বল, ৫৫ প্যাকেট ওরিও বিস্কুট, ৪ হাজার ৩৪১টি ভারতীয় শাড়ি, একটি বড় ট্রাক, ৫০ ঘনফুট বালু, একটি ভারতীয় ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং তিনটি ষাঁড়ের বাছুর।
এ ছাড়া জিডির মাধ্যমে একটি এসএলআর ও একটি পুরোনো মরিচাধরা পিন/লিভার উদ্ধারের তথ্যও রয়েছে।
চলতি বছরের বিভিন্ন সময়েও জৈন্তাপুরে ভারতীয় চা-পাতা, কম্বল, জিরা, শাড়ি, মাদকসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্যও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এলেও পুলিশের পক্ষ থেকে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযান, উদ্ধার ও মামলা-গ্রেপ্তারের তথ্যও আলোচনায় এসেছে। ফলে সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নে শুধু অভিযোগ নয়, পুলিশের নথিভুক্ত অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রমের তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত তৎপরতাও প্রয়োজন।