ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধির ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগ সিলেটের জৈন্তাপুরে
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি:
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় জনগণের সেবায় নিয়োজিত এক জনপ্রতিনিধির ছবি ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সম্প্রতি উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলীর একটি প্রশাসনিক কাজের স্বাভাবিক ছবিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পাদনা করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানা যায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর জৈন্তাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী উপস্থিত থেকে স্থানীয় এক নাগরিকের জন্য সনদে স্বাক্ষর করার সময় এক সাংবাদিক সেটির ছবি ধারণ করেন। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই সাংবাদিকের নিজস্ব ফেসবুক পাতা থেকে ছবিটি প্রকাশিত হয় যেখানে জনস্বার্থে দায়িত্বরত একজন জনপ্রতিনিধির সাধারণ দায়িত্ব পালনের মুহূর্তটি দেখা যাচ্ছিল।
অভিযোগ উঠেছে যে গত ৫ অক্টোবর একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক পাতা থেকে মূল ছবিটি সংগ্রহ করে আধুনিক ডিজিটাল সম্পাদনার মাধ্যমে চেয়ারম্যানের হাতে অসৎ উদ্দেশ্যে অনুপযুক্ত বস্তু যুক্ত করে একটি কুরুচিপূর্ণ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই বিভ্রান্তিকর ছবিটি সম্পর্কে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিবর্গ জানান যে দুটি ছবি পাশাপাশি রেখে সত্যতা যাচাই করলেই ডিজিটাল কারসাজির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই ছাড়া ভুল তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান যে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে তার সম্মানহানির যে চেষ্টা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। একই সাথে তিনি স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কোনো প্রকার বিভ্রান্তিতে না পড়ে শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা যেকোনো তথ্য বা ছবি প্রচারের পূর্বে তার উৎস ও সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন যেন দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য কারও সুনাম ক্ষুণ্ণ না হয়।