১৫ বছরের কষ্টের অবসান ঘটিয়ে গোয়াইনঘাটের গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়ে আধুনিক ওয়াশ ব্লকের যাত্রা
সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তবর্তী জনপদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দেড় দশকের স্বাস্থ্যকষ্ট দূর করতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। উপজেলার গুচ্ছগ্রাম বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রায় নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুরক্ষায় এমন কার্যকর পদক্ষেপ অত্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও সুধী মহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হলেও সেখানে মানসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থার ব্যাপক অভাব ছিল। একটি মাত্র জরাজীর্ণ টয়লেটের ওপর নির্ভরশীল থাকায় কয়েকশ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হতো যা তাদের স্বাভাবিক পাঠদান প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসুরক্ষাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমস্যাটি ছিল পাহাড়সম যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসা আন্তর্জাতিক সংস্থাটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. করিম মাহমুদ লিমন এবং প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার। তাদের মতে এই অত্যাধুনিক স্থাপনাটি নির্মাণের ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
শিশুদের মেধা বিকাশে যেমন শিক্ষার প্রয়োজন ঠিক তেমনি তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন যে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের গোয়াইনঘাট এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেলী তেরেজা কসতা শিশুদের জন্য নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানান যে আগামীতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে সাংবাদিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের এই নতুন স্বপ্নযাত্রায় এক অন্যরকম উদ্দীপনা তৈরি করেছে।